বিশেষ প্রতিবেদক: সিলেটের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কালীঘাট বাজারে দীর্ঘ দিন সাধারণ ‘লেবার’ বা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন রগু দেব। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন তার হাতে আলাদিনের চেরাগ চলে আসে। ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়ার মতো রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, বৈধ ব্যবসার আড়ালে রগু দেব মূলত সীমান্তবর্তী চোরাচালান ও ‘বোঙ্গা বাণিজ্যের’ একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক।
কালীঘাট বাজারের ‘রুদ্র ভ্যারাইটিজ স্টোর’ ও ‘রুদ্র ট্রেডার্স’ নামের পাইকারি ও খুচরা ভূষিমালের ব্যবসার আড়ালে চলে তার এই অবৈধ সাম্রাজ্য। সরেজমিনে ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রতিদিন ভোররাতে ভারত থেকে সীমান্ত পার হয়ে আসা চোরাই পণ্যের ডিআই পিকআপ ও মিনি ট্রাক রগু দেবের তত্ত্বাবধানে সরাসরি তার গোডাউনে খালাস করা হয়।
এই চোরাই চালানের সিংহভাগ জুড়ে থাকে ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা ফুচকা, চিনি, জিরা, মেহেদিসহ বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় প্রসাধনী ও খাদ্যসামগ্রী, যার প্রতিটির বস্তায় স্পষ্টাক্ষরে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ লেখা থাকে। স্থানীয় চোরাকারবারিদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সরাসরি রগু দেবের এই চোরাই মাল সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, রগু দেবের রয়েছে নিজস্ব একটি শক্তিশালী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। এই বাহিনীর সহায়তায় এবং পুরো বাজার সিন্ডিকেটের জোরে তিনি ভারতীয় চোরাই পণ্যের বাজার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। কালীঘাট বাজারকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে এসব চোরাই মাল পরবর্তীতে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পাচার করা হয়। এই বিশাল চোরাচালান চক্রের কারণে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে, শুল্ক দিয়ে বৈধভাবে পণ্য আমদানি করা সাধারণ ও সৎ ব্যবসায়ীরা বাজারে টিকতে না পেরে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বাজারে সুস্থ ব্যবসায়ী পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশ সবসময়ই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ সিন্ডিকেট ও চোরাকারবারিদের তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুতই এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সিলেট মেট্রোপলিট পুলিশের দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।
Leave a Reply